Breaking News

বাজারে হঠাৎ পাল্টে গেল জ্বালানি তেলের দাম

বাজারে হঠাৎ পাল্টে গেল জ্বালানি তেলের দাম

শক্তিশালী মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ভেনিজুয়েলা ও রাশিয়ার তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬২ দশমিক ৪২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৫৮ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। এদিন ব্রেন্ট ক্রুড দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক বৃদ্ধি দেখায় এবং ১৪ নভেম্বরের পর ডব্লিউটিআইয়ের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ে। মঙ্গলবারও তেলের দাম আরও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করে জানায়, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয়ের কারণে মার্কিন অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ত্রৈমাসিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদন বার্ষিক ভিত্তিতে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৩ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের পর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।

আইজি গ্রুপের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি তথ্য রাতারাতি তেলের দামে সমর্থন জুগিয়েছে।

হাইটং ফিউচারস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার তেল রফতানিতে সম্ভাব্য ব্যাঘাত বাজারের মনোভাবকে সমর্থন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইউক্রেনের একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চলমান হামলাও তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্যান্য প্রভাবশালী বিষয়ের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্য আপাতত বাজার খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

মঙ্গলবার আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যের বরাত দিয়ে বাজার সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ২৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। একই সময়ে পেট্রোলের মজুত বেড়েছে ১০ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল এবং ডিস্টিলেট মজুত বেড়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ব্যারেল।

ছুটির কারণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দেরিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন সোমবার তাদের সরকারি তথ্য প্রকাশ করবে। হাইটং ফিউচারস জানিয়েছে, ডিসেম্বরে ছুটির মৌসুমের প্রভাবে পরিশোধিত তেলের চাহিদা সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে মজুত বৃদ্ধির তথ্যের প্রতি বাজারের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সীমিত থেকেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসের শুরুতে ভেনিজুয়েলায় প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার আওতায় সব তেল ট্যাঙ্কার অবরোধের ঘোষণা দেন। এতে জাহাজ মালিকদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে।

মঙ্গলবার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকমজানায়, গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলা থেকে তেল বহনকারী পানামা-পতাকাবাহী একটি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি ট্যাঙ্কার আটকের পর ভেনিজুয়েলার জলসীমায় ফিরে এসেছে।

এর আগে এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র একটি সুপারট্যাঙ্কার আটক করে এবং সপ্তাহান্তে আরও দুটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে। এর ফলে এক ডজনেরও বেশি তেলবাহী জাহাজ ভেনিজুয়েলায় অবস্থান করে তাদের মালিকদের কাছ থেকে নতুন নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *