Breaking News

আমাকে বলা হলো হিজাব পরলে ফ্ল্যাট দিবোনা, এটা কি ঠিক হচ্ছে

আমাকে বলা হলো হিজাব পরলে ফ্ল্যাট দিবোনা, এটা কি ঠিক হচ্ছে
দিল্লিতে পড়াশোনা আর কাজের টানে ভাড়া বাড়ি খুঁজতে বেরিয়েছিলেন কাশ্মীরের এক তরুণী। নাম মুনাজ্জা(পরিবর্তিত) । শহরটা তার কাছে নতুন, মানুষগুলোও অচেনা। তবু মনে ছিল—সব বড় শহরের মতো এখানেও নিশ্চয়ই জায়গা পাওয়া যাবে। বাস্তবটা যে এতটা কঠিন হবে, তা ভাবেননি তিনি।

একটা ফ্ল্যাট দেখতে গিয়ে প্রথম ধাক্কাটা আসে খুব সাধারণ একটা প্রশ্নে। “আপনি কি মুসলিম?” প্রশ্নটা শোনামাত্রই ঘরের বাতাস বদলে যায়। কথা আর এগোয় না। কোথাও আবার হাসিমুখে বলা হয়, “এখানে নিয়ম আছে।” নিয়মটা কী—তা আর পরিষ্কার করে বলা হয় না।
আরেক জায়গায় পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর। বাড়িওয়ালা সরাসরি শর্ত দেন—ফ্ল্যাট পেতে হলে হিজাব পরা যাবে না। নিজের পরিচয়, নিজের বিশ্বাস—সবকিছু যেন দরজার বাইরে রেখে ঢুকতে হবে। মুনাজ্জার বুকটা সেই মুহূর্তে ভারী হয়ে আসে। বাড়ির খোঁজে এসে নিজেকেই যেন ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে।

এই শহরে তিনি একা নন। পড়াশোনা, চাকরি, স্বপ্ন—সবকিছু নিয়েই হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এখানে আসে। কিন্তু ধর্ম বা পোশাকের কারণে দরজা বন্ধ হয়ে গেলে স্বপ্নগুলো কোথায় যাবে? এই প্রশ্নটাই বারবার ঘুরতে থাকে তাঁর মনে।

মুনাজ্জা কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে চাননি। তিনি শুধু নিজের অভিজ্ঞতাটুকু বলেছেন—যেন কেউ বুঝতে পারে, সমস্যাটা কোথায়। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁর মনে হয়েছে, বাড়ি মানে শুধু চারটে দেয়াল নয়; নিরাপত্তা আর সম্মানও তার অংশ।

সব মানুষ একরকম নয়—এই কথাটা তিনি জানেন। কোথাও কোথাও সহানুভূতিও পেয়েছেন। কেউ শুনেছেন মন দিয়ে, কেউ বলেছে, “হাল ছাড়বেন না।” সেই ছোট ছোট কথাগুলোই তাঁকে এগিয়ে চলার শক্তি দিয়েছে।

এই অভিজ্ঞতা আমাদের সামনে একটা বড় প্রশ্ন রেখে যায়। ভাড়া বাড়ি দেওয়া কি শুধু কাগজপত্র আর টাকার হিসেব? নাকি মানুষ হিসেবে মানুষকে দেখারও একটা দায়িত্ব আছে? শহর যদি সবার হয়, তবে দরজাগুলো কি সবার জন্য খোলা থাকা উচিত নয়?

মুনাজ্জার গল্প কোনো একার নয়। এটা অনেকের নীরব অভিজ্ঞতা, যা খুব কমই আলোচনায় আসে। কথা বললেই বদল শুরু হয়—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের কথাটা বলেছেন। শুনব কি আমরা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *