সঙ্গমে অক্ষম স্বামীর থেকে ৯০ লক্ষ টাকা খোরপোশ চাই, স্ত্রীর

সঙ্গমে অক্ষম স্বামীর থেকে ৯০ লক্ষ টাকা খোরপোশ চাই, স্ত্রীর

তাঁর স্বামী ‘পুরুষত্বহীন’ এই যুক্তিতে বিবাহবিচ্ছেদ এবং ৯০ লক্ষ টাকা ভরণপোষণ চেয়ে একজন মহিলা তেলঙ্গানা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে সেখানেও বেশি সুবিধা করতে পারেননি তিনি। হাইকোর্ট মহিলার আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেছে যে স্বামীর পুরুষত্বহীনতা বা তিনি বিবাহে জালিয়াতি করেছেন এই দাবির পক্ষে তাঁর কাছে কোনও প্রমাণ নেই।

আদালতে ওই মহিলা দাবি করেছেন যে তাঁর স্বামী লিঙ্গোত্থানে সমস্যা রয়েছে এবং তিনি যৌন মিলনে অক্ষম তাই বিবাহ বাতিল করে তাঁকে ৯০ লক্ষ টাকার স্থায়ী ভরণপোষণ দেওয়া হোক। বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি বিআর মধুসূধন রাওয়ের বেঞ্চ তাঁর আপিল খারিজ করে দেয়। দুই বিচারপতির বেঞ্চ গত মাসে একটি রায়ে বলেছে, “আমরা মনে করি যে আবেদনকারী তাঁর স্বামী পুরুষত্বহীন এবং যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অক্ষম, স্বামীর হাতে হয়রানির শিকার হয়েছেন এই সব কারণে বিবাহ বাতিলের জন্য যথেষ্ট যুক্তি খাঁড়া করতে পারেননি এবং তিনি যে ৯০ লক্ষ টাকার স্থায়ী ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা ট্রায়াল কোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী নই।”

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এই দম্পতির বিয়ে হয়। তবে,ওই মহিলা দাবি করেছেন যে তাঁদের বিয়ে কখনও সম্পন্ন হয়নি। আদালতে স্ত্রী তাঁদের দু’টি মধুচন্দ্রিমার কথাও উল্লেখ করেছেন, একটি ২০১৩ সালে কেরলে এবং অপরটি ২০১৪ সালে কাশ্মীরে। তিনি দাবি করেছেন, ওই দু’বার তাঁর স্বামী যৌন মিলন করতে পারেননি।

আদালতে ওই মহিলা আরও যুক্তি দিয়েছিলেন যে তাঁর স্বামী রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন এই সত্যটি গোপন করেছিলেন, যার ফলে পুরুষাঙ্গের উত্থানজনিত সমস্যা দেখা দেয় এবং দাবি করেছিলেন যে এটি হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর অধীনে নিষ্ঠুরতার সমান। তিনি ২০১৭ সালে একটি মেডিকেল টেস্টের কথাও উল্লেখ করেছিলেন যেখানে তাঁর স্বামী বৈবাহিক জীবনের জন্য ‘অযোগ্য’ এবং সন্তান ধারণে অক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছিল।

তবে, মহিলার স্বামী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্ত্রীর দাবির বিরোধিতা করে তিনি বলেন যে তাঁদের বিবাহে কখনও সহবাসই হয়নি। যদিও তিনি অস্থায়ী উত্থানজনিত সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন যে চিকিৎসা করিয়ে তিনি এখন সুস্থ রয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেছেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, যার মধ্যে দু’টি মধুচন্দ্রিমার সময়ও রয়েছে।

আবেদন খারিজ করে হাইকোর্ট বলেছে যে, স্বামী বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে অক্ষম ছিলেন এমন কোনও প্রমাণ রেকর্ডে নেই। আদালত আরও বলেছে যে, পাঁচ বছর বিয়ের পর স্ত্রী দাবি করতে পারবেন না যে স্বামী পুরুষত্বহীন, যখন চিকিৎসা রেকর্ড এবং তার নিজের আচরণ উভয়ই অন্যথা নির্দেশ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *