শীত এলেই অনেকের ত্বকে দেখা দেয় অস্বস্তিকর চুলকানি, লালভাব ও খসখসে ভাব। চিকিৎসা পরিভাষায় এটি ‘উইন্টার ইচ’ বা প্রুরাইটাস হাইমালিস নামে পরিচিত, শীতের ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া যার প্রধান কারণ। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
শীত এলেই অনেকের ত্বকে দেখা দেয় অস্বস্তিকর চুলকানি, লালভাব ও খসখসে ভাব। চিকিৎসা পরিভাষায় এটি ‘উইন্টার ইচ’ বা প্রুরাইটাস হাইমালিস নামে পরিচিত, শীতের ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া যার প্রধান কারণ। ত্বক থেকে আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যায়, ফলে দেখা দেয় শুষ্কতা, চুলকানি, এমনকি ত্বকে ছোট ফাটল ও রক্তপাত পর্যন্ত হতে পারে। তবে সঠিক যত্ন ও প্রতিরোধের মাধ্যমে এই সমস্যা সহজেই কমানো ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
শীতের চুলকানি বুঝবেন যেভাবে: শীতের চুলকানিকে অনেকে র্যাশ বলে ভুল করেন, কিন্তু এতে আসলে র্যাশ হয় না। ত্বক সাধারণত স্বাভাবিকের মতোই থাকে, তবে শুষ্কতা বোঝা যায় বেশি। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
ত্বক শুষ্ক লাগা
হালকা লালভাব
ত্বকের খোসা ওঠা
স্থায়ী চুলকানি
ত্বকে ছোট ছোট ফাটল
কখনো হালকা রক্তপাত
সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় পা, বিশেষ করে উরুর ভেতরের অংশ, হাঁটুর আশপাশ, পায়ের পেছন দিক ও গোড়ালি।
কারা বেশি ঝুঁকিতে: শীতের চুলকানি যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি:
১. বয়স্ক মানুষ
বয়স বাড়লে ত্বক পাতলা ও শুষ্ক হয়ে যায়। এর ওপর ঠান্ডা আবহাওয়া আরও আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়।
২. যাদের ত্বক আগে থেকেই শুষ্ক
একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের সমস্যায় আক্রান্তদের শীতে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
আরও পড়ুন: ত্বকের সৌন্দর্য ও থাইরয়েডের ঝুঁকি কমাতে যেসব বীজ খেতে বললেন পুষ্টিবিদ
শীতে সুগন্ধিযুক্ত সাবান, লন্ড্রি ডিটারজেন্ট, ফ্যাব্রিক সফটনার এসবের রাসায়নিক ত্বকে র্যাশের কারণ হতে পারে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
শীতে সুগন্ধিযুক্ত সাবান, লন্ড্রি ডিটারজেন্ট, ফ্যাব্রিক সফটনার এসবের রাসায়নিক ত্বকে র্যাশের কারণ হতে পারে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
শীতে চুলকানির সমস্যার কারণ: শীতের বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। এই শুকনো বাতাস ত্বকের উপরের স্তর থেকে দ্রুত পানি টেনে নেয়। এছাড়াও শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল করেন অনেকেই , কিন্তু এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এসব কারণে শীতের দিনে চুলকানির সমস্যা বেড়ে দায়। আবার অনেকেই জানে না শীতে সুগন্ধিযুক্ত সাবান, লন্ড্রি ডিটারজেন্ট, ফ্যাব্রিক সফটনার এসবের রাসায়নিক ত্বকে র্যাশের কারণ হতে পারে। শুধু শীতের বাতাস নয়, এসি কিংবা রুম হিটারের বাতাসও খুব শুষ্ক হয়। এতে ত্বক আরও পানিশূন্য হয়।
সমাধানে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: চিকিৎসকরা বলছেন শীতের দিনে ত্বকের কোষগুলো সুস্থ রাখতে কিছু খাবার সাহায্য করে তাই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে বে। এগুলো হলো:
অতিরিক্ত পানি পান করুন সেই সঙ্গে শসা, তরমুজ, সেলারি—এ ধরনের পানি সমৃদ্ধ খাবার খান।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, ফ্ল্যাক্সসিড, আখরোট ত্বককে আর্দ্র রাখে তাইএ গুলো খেতে পারেন।
প্রোটিন ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে তাই খাদ্যতালিকায় মাছ, ডাল ও ডিম রাখুন।
ভিটামিন এ, সি এবং ই সমৃদ্ধ ফল ও সবজি ত্বকের প্রদাহ কমায়।
আরও পড়ুন
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতিকর?
কিডনির ভয়াবহ রোগের ঝুঁকি এড়াতে খাদ্যতালিকায় কী পরিবর্তন জরুরি?
প্রতিরোধের উপায়
গোসলের পরপরই ঘন ময়েশ্চারাইজার লাগান।
খুব গরম পানি দিয়ে গোসল না করে হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন।
গোসল ৫ মিনিটে সীমিত রাখার চেষ্টা করুন।
তোয়ালে দিয়ে ঘষাঘষি না করে আলতো করে মুছুন
ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন।
শীতের বাইরে বের হলে শরীর ঢাকা রাখুন।
উল বা রুক্ষ কাপড় এড়িয়ে হালকা ও নরম কাপড় পরুন
শুধুমাত্র শীতকালেই সাধারণত এই সমস্যা দেখা দেয় এবং আবহাওয়া উষ্ণ হলে তা নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যাদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল, তাদের প্রতি বছরই শীতে একই সমস্যা হতে পারে। শীতের চুলকানি বিরক্তিকর হলেও সঠিক যত্নে এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তবে অনেক সময় দেখা যায় অতিরিক্ত চুলকালে ত্বক ফেটে রক্তপাত হয়। কিছুক্ষেত্রে ক্ষতস্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। আবার একজিমা ও সোরিয়াসিসের উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে এই শীতে। এই সব এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ
Bongofact