পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললেই হওয়া যায় পূর্ণাঙ্গ নারী
পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললেই হওয়া যায় পূর্ণাঙ্গ নারী। চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় এমন ভয়ংকর প্রলোভন দেখিয়ে সুস্থ পুরুষদের অঙ্গহানি করছে একটি সংঘবদ্ধ মাফিয়া চক্র।
আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়ের গতকাল তার ফেসবুকে এই তথ্য দেন। একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, অবৈজ্ঞানিক পথে এই মরণফাঁদে পা দিয়ে পঙ্গু হচ্ছেন অসংখ্য তরুণ। শুধু তাই নয়, ভয়াল থাবায় অঙ্গহানির পাশাপাশি হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বদলে দেওয়া হচ্ছে ভুক্তভোগীদের শারীরিক অবয়ব।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই জঘন্যতম অপরাধের নেপথ্যে রয়েছে হিজড়া ছদ্মবেশী সৈয়দ মাহমুদুল হোসেন ইলু ও তার সহযোগীরা। যাদের মূল উদ্দেশ্য শহরজুড়ে চাঁদাবাজির এক নতুন বাহিনী গড়ে তোলা।
এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান,তাকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাকে জানানো হয় পুরুষাঙ্গ কেটে নিলে তারা মেয়েদের মতন হয়ে যাবে। মেয়েদের মত হওয়ার প্রবল ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে ধাবিত করা হয় অমানবিক জীবনে।
তিনি বলেন, আমার যখন পুরুষাঙ্গ নাই আমি পেশাব করতে যখন কষ্ট হচ্ছে দেখতেছি আমার নিচে একটা পাইপ আছে, পাইপের মধ্যে একটা পলিথিন আছে। আমি বলছি এটা কী হলো? লাস্টে আমি জানতেছি আমার লাইফে কী হয়েছে।
আরও এক ভুক্তভোগী বলেন, ড্রিঙ্কসের সাথে কিছু একটা ছিল, যা আমার হুঁশ-জ্ঞান কিছুই ছিল না। আমার জ্ঞান ফিরছে দুই দিন পরে। দুই দিন পরে আমি দেখতে পারছি এবং জানতে পারছি আমার অঙ্গহানি হয়ে গেছে। আমি চাই আমি আজকে শাহাদাত সুস্মিতা হয়েছি একজনের খপ্পরে পড়ে, আমার মতো যাতে আর কোনো শাহাদাত সুস্মিতা না হয়।
চাঞ্চল্যকর ভিডিওতে দেখা যায়, এই রূপান্তরের কারখানায় কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। নেই কোনো আইনি অনুমোদন। এখানে কাঁচি আর ব্লেডের নিচে স্রেফ কসাইগিরি করে নিমিষেই শেষ করে দেওয়া হচ্ছে একজনের পুরুষত্ব।
নারী হওয়ার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষায় যারা ইলুর দ্বারস্থ হচ্ছেন, তাদের এই স্বপ্নের শেষ পরিণতি যে কতটা বিভীষিকাময়, তা আগে আঁচ করতে পারেন না ভুক্তভোগীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রূপান্তর নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত ও অমানবিক অঙ্গচ্ছেদ।
ডা. নেজামুল হক বলেন, এটা ঘরে বসে কাঁচির মাধ্যমে করার কোনো সুযোগই নেই, কোনো প্রশ্নই আসে না এটার মধ্যে। অনভিজ্ঞভাবে এভাবে যদি কাটা হয়, প্রথম কথা হচ্ছে যে তার ক্ষত ঠিক করে শুকাবে না। সেক্ষেত্রে কিন্তু তার সেপটিসেমিয়া হওয়ার একটা চান্স আছে। ইউরেথ্রাল স্টেনোসিস হওয়ার চান্সটা খুব বেশি এবং সেক্ষেত্রে কিন্তু তার পরবর্তীতে রিটেনশন হয়ে কিডনি ফেইলিউর হওয়ার চান্স থাকে।
এই মরণ ফাঁদের সর্বশেষ শিকার মোহাম্মদ শাকের। নারী হওয়ার প্রলোভন দিয়ে তাকে অচেতন করে কেটে ফেলা হয় তার পুরুষাঙ্গ। অস্ত্রোপচারের পর প্রস্রাবের পথ সচল রাখতে সেখানে জোড়াতালি দিয়ে ঢুকিয়ে রাখা হয় প্লাস্টিক নল। সংক্রমণের ঝুঁকি আর অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে এখন পঙ্গুত্বের পথে এই যুবক।
মোহাম্মদ শাকের (ভুক্তভোগী) বলেন, আমি জানি না আমাকে কী ড্রিঙ্ক দিয়েছে, আমি অজ্ঞান হয়ে গেছি। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার এদিকে এগুলো নাই। আমি যে কান্নাকাটি করছি তা সারারাত চলে গেছে। আমি আগের মতো হাঁটতে পারি না, দৌড়াতে পারি না। আমার জীবনটা শেষ করেছে ও, আমার জীবন অন্ধকার করেছে। আমি একটা ছেলে ছিলাম। আমার কেন আমার জীবনটা শেষ করল, আমি জানি না।
শোনা যায়, ইলু নিজেও একজন পূর্ণাঙ্গ পুরুষ, যে কিনা হিজড়া সেজে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। ইলুর নির্দেশ অমান্য করলেই নেমে আসে মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের খড়গ, যে কারণে ভয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে পারে না কেউ। আমাদের হাতে আসা কিছু অডিও রেকর্ডে মিলেছে এই হিজড়া রূপধারী মাফিয়ার হুমকির চিত্র।
তবে বর্তমানে একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলায় চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন অভিযুক্ত ইলু।
আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও মানব অঙ্গহানির একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। সম্মতির দোহাই দিলেও আইনত এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
Bongofact